
কথা২৪ । ডেস্ক রিপোর্ট
ঈদকে কেন্দ্র করে দেশের অন্যতম বড় গণযাত্রা শেষ হলেও, যাত্রার নিরাপত্তা ও বাস্তবতা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দাবি করেছেন, এবারের ঈদযাত্রা ছিল “স্বস্তির”, এবং প্রায় ৩০০ জনের মৃত্যুর যে তথ্য প্রচারিত হয়েছে, তা “সঠিক নয়”।
রোববার মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়, মন্ত্রী জানান, তার কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী ১৭ মার্চ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সড়ক, নৌ ও রেলপথ মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১৭০ জন। এর মধ্যে মহাসড়কে ৪৭ জন, নৌপথে ২৮ জন এবং রেলপথে ১৭ জন নিহত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। বাকি মৃত্যুর ঘটনা স্থানীয় সড়ক ও অন্যান্য দুর্ঘটনায় ঘটে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে, বেসরকারি সংস্থাগুলোর তথ্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে সারা দেশে ৩৭৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় প্রায় ২৯৮ জন নিহত হয়েছেন। এই দুটি ভিন্ন পরিসংখ্যানের ফলে জনমনে বিভ্রান্তি ও প্রশ্ন উঠেছে—আসল সংখ্যা কী?
মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “দেড় কোটি মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে ঢাকা ছেড়েছে এবং তাদের অধিকাংশই নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পেরেছে।” তিনি এটিকে সামগ্রিকভাবে একটি সফল ও স্বস্তির যাত্রা হিসেবেই অভিহিত করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি কিছু “অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা” ঘটার কথা স্বীকার করেন, যা দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
বাস্তবে ঈদযাত্রা চলাকালে দেশের বিভিন্ন সড়কে দীর্ঘ যানজট, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় এবং পরিবহন সংকটের অভিযোগ ছিল ব্যাপক। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় আটকে থাকতে হয়েছে, এমনকি কেউ কেউ ঈদের দিনেও বাড়ি পৌঁছাতে পারেননি। এই অভিজ্ঞতা অনেকের কাছে “স্বস্তির যাত্রা” দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধুমাত্র সংখ্যার পার্থক্য নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ এবং স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ অত্যন্ত জরুরি। নইলে প্রতি বছর একই ধরনের বিতর্ক ও দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।
ঈদযাত্রা শেষ হলেও প্রশ্ন রয়েই যায়—সংখ্যার হিসাব বদলালে কি বাস্তবতা বদলায়, নাকি প্রকৃত চিত্র এখনও আড়ালেই রয়ে যাচ্ছে?
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।